জানুন একনজরে- কি করণীয় মোবাইল স্লো হলে
আপনার কি মোবাইল অনেক বেশি স্লো হচ্ছে? আপনি কি কোনোভাবেই মোবাইল স্পিড বাড়াতে পারছেন না? আজ আপনি অনেক সহজভাবে এর সমাধান পেয়ে যাবেন। চলুন এক নজরে জেনে নেই মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়।
আপনি কি মোবাইল ফোনের স্লো হওয়া নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত আছেন? মোবাইল স্লো হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রধান কারণ হলো আমরা ফোন কেনার পর সঠিক নিয়মে ফোন ব্যবহার করি না। আজকের এই পোস্টে আপনাদেরকে মোবাইল স্লো হওয়ার সকল তথ্য জানাবো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়
- মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়
- মোবাইল স্লো কেন হয়
- মোবাইল রিসেট করার সুবিধা ও অসুবিধা
- মোবাইলের স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়
- ফোন আপডেট করলে কি স্পিড বাড়ে
- মোবাইলে স্টোরেজ খালি করার নিয়ম
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলার উপকারিতা
- শেষ কথাঃ মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়
মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়
বর্তমানে অনেকের ফোন কিছু সময় ব্যবহার করার পর ফোন নিজে থেকেই হঠাৎ করে থেমে যায় অথবা ধীরগতি হয়ে যায়। আজ আমি আপনাদের জানাবোমোবাইল স্লো হলে কি করণীয় যা আপনার ফোনের কাজের গতি দ্রুত করতে অনেক বেশি সাহায্য করবে। আমরা অনেকে একটি ভুল করে থাকি সেটি হল ফোনে যদি স্লো বা ধীরগতির হয় তাহলে বার বার রিস্টার্ট করি অথবা রিস্টোর করি। শুধুমাত্র এই দুটি বিষয় ফলো করলে আপনার ফোনের ধীরগতি সমাধান হবে না। আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে ফোনের স্টেপ বাই স্টেপ নিয়ম ফলো করলে সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
মোবাইলে স্লো হওয়ার সমস্যা নতুন ফোন অথবা পুরনো ফোন উভয় ফোনের ক্ষেত্রেই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। কোন অ্যাপ এ ঢোকার সময় অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় অথবা কোন অ্যাপ খোলার সময় অনেক বেশি সময় লাগে। এ সকল সমস্যার জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই ফোন অনেকটাই স্পিড বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজনীয় অ্যাপ ছাড়া বাকি অ্যাপগুলো আনইনস্টল করে ফেলতে হবে। এতে আপনার ফোনের স্টোরেজ কমে আপনার ফোন স্পিড বাড়তে সাহায্য করবে।
মোবাইল স্লো কেন হয়
মোবাইল স্লো হওয়ার জন্য অনেক কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো আপনার ফোনে গতি কমিয়ে দেয়। আপনি আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় উইজেট ব্যবহার করবেন না এতে আপনার ফোনের স্পিড কমিয়ে দিতে পারে। মোবাইল স্লো হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মোবাইলের অতিরিক্ত অপ্রয়োজনে অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইলের স্টোরেজ পূর্ণ করে দেওয়া। এই ভুলটি সাধারণত আমরা অনেকেই করে থাকি এতে মোবাইলের গতি অনেক কমে যায়। ফলে ফোনের কাজ করতে অনেক বেশি সময় লাগে।
আরো পড়ুনঃ মহিলাদের ঘরে বসে ইনকাম করার বাস্তবসম্মত ৮ টি উপায়
আপনি যদি একসঙ্গে অনেক বেশি অ্যাপ চালু রাখেন এতে আপনার ফোনে স্লো হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে একসঙ্গে অনেক বেশি অ্যাপ ব্যবহার করলে র্যাম বেশি ব্যবহার হয়। অতিরিক্ত ক্যাশ ফাইল জমে যাওয়ার কারণে আপনার ফোন স্লো হতে পারে। এছাড়াও পুরনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ফোনের স্পিড কমে যায়। দীর্ঘদিন ফোন রিস্টার্ট না করার কারণে ও ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই অবশ্যই ফোন ব্যবহার করলে এই সকল বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।
আপনার ফোন যদি পুরনো সফটওয়্যার দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন তাহলে নতুন সফটওয়্যার আপডেট করুন এতে আপনার ফোন গতি বাড়াতে সাহায্য করবে। ব্যাকগ্রাউন্ড চালু থাকলে অনেক সময় র্যাম বেশি ব্যবহার করে এটি আপনার স্লো করে দেয়।
মোবাইল রিসেট করার সুবিধা ও অসুবিধা
মোবাইলের রিসেট করলে কি আসলেই কোন সুবিধা পাওয়া যায়? মোবাইল রিসেট করলে কি কোন অসুবিধা হয়? এ সকল প্রশ্নের উত্তর চলুন জেনে নি। হ্যাঁ মোবাইল রিসেট করলে ফোনের গতি বৃদ্ধি করতে অনেক সাহায্য করে। প্রথমে আমরা জানব মোবাইল রিসেট টা আসলে কি?
ফোনের রিসেট হচ্ছে মূলত এমন একটি বিষয় যা ফোনের সকল অ্যাপ মুছে দেয়। এছাড়াও আপনার ফোনের ব্যক্তিগত সকল তথ্য, সেটিংস ও আপনার ফোনের ডেটা মুছে দিয়ে আপনার ফোনকে নতুনের মত ফ্রেশ করে দেয়।
এখন জানব মোবাইল রিসেট করলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায় এবং এর অসুবিধা গুলো কি হতে পারে। মোবাইল রিসেট করলে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো হল আপনার ফোনের সফটওয়্যার সমস্যা অনেক সহজে দূর করতে পারে। ভাইরাস বা ক্ষতিকর যে কোন অ্যাপ মুছে ফোনের স্পিড বাড়াতে সাহায্য করে। আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে দিয়ে আপনার ফোনের স্টোরেজ পরিষ্কার করে দেয়। এছাড়াও আপনি যদি আপনার ফোন বিক্রয় করতে চান তাহলে ফোনের ব্যক্তিগত সকল ধরনের তথ্য মুছে দিতে পারে।
এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মোবাইল রিসেট করলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। আসুন দেখে নি মোবাইল রিসেট করার অসুবিধা গুলো কি কি রয়েছে। মোবাইল রিসেট করলে আপনার ফোনের ব্যক্তিগত ডাটা গুলো মুছে মুছে যাবে এতে আপনার ফোনের ব্যক্তিগত ভিডিও, ছবি অথবা ম্যাসেজ সমস্ত কিছু আগে থেকে যদি ব্যাকআপ করা না হয় তাহলে মুছে যাবে। ফলে ব্যাকআপ না থাকার কারণে আপনার ফোনের ডেটা ফেরত পেতে অনেক বেশি সমস্যা হবে।
আপনার ফোনে যদি মাদারবোর্ড অথবা ফোনের ভেতরে ব্যাটারির বা ডিসপ্লে অথবা চার্জিং এর সমস্যা হয় তাহলে রিসেট করে ও কোন ফলাফল পাবেন না।
মোবাইলে স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়
এতক্ষণ আমরা জানলাম মোবাইলের রিসেট করার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে। আমি জানব মোবাইল স্লো হলে কি করণীয় বা মোবাইলে স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়। ফোনের রিস্টার্ট করতে হবে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার অন্তত রিস্টার্ট করলে ফোনের স্পিড বাড়ানো সম্ভব। আপনার ফোনের স্টোরেজে অপ্রয়োজনীয় কোন কিছু না রেখে ডিলিট করুন আপনার স্টোরেজের খালি জায়গা অন্তত ১৫ থেকে ২০% রাখা উচিত এতে আপনার ফোন দ্রুত করতে সাহায্য করবে। আপনার ফোনের ফেসবুক বা ইউটিউব এইসব অ্যাপের ক্যাশে নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ফোনের স্প্রিড বাড়তে পারবে।
আরো পড়ুনঃঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী
এছাড়াও আপনার ফোনে যে সকল অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে সেগুলো খুবই দ্রুত র্যামের এর জায়গা পূরণ করে ফোনের স্পিড কমিয়ে দেয়। তাই অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। এতে আপনার ফোনে স্পিড সহজেই বাড়বে। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলবো যেটি আপনার ফোনকে অনেক বেশি স্লো করে দেয়। ফোনের ভাইরাস বা ক্ষতিকর ফাইল শুধু আপনার ফোনকে স্লো-ই করে না, বরং এটি ফোনকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিতে পারে।তাই অবশ্যই শুধুমাত্র যে সকল অ্যাপ বিশ্বাস জনক সেগুলোই শুধুমাত্র আপনার ফোনে ইন্সটল করুন। বাকিগুলো মুছে ফেলুন।
ফোন আপডেট করলে কি স্প্রিড বাড়ে
ফোন আপডেট করলে কি আসলেই স্পিড বাড়ে তার সঠিক তথ্য এখন আমরা জানবো। চলুন সঠিক তথ্য বিস্তারিত জেনে নেই। ফোন আপডেট করলে স্পিড বাড়ে তবে কিছু কারণে স্পিড কমে যেতেও পারে সেক্ষেত্রে বিষয়গুলো জেনে থাকা প্রয়োজন। চলুন বিষয়গুলো এখন জেনে নেই। প্রথমে জানবো আপডেট করলে কিভাবে স্পিড বাড়ে-ফোন আপডেট করলে ফোনের নতুন ফিচার যোগ হয় এবং ফোনের যে অ্যাপগুলো রয়েছে সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্য বেড়ে যায়। এর ফলে ফোনের স্পিড বাড়ে এছাড়াও আগের ভার্সনের বাগ বারে ।
আবার ফোনের নিরাপত্তা অনেক বেশি মজবুত হয় এছাড়াও ফোনের পারফরম্যান্স ভালোভাবে উন্নত হতে পারে। এখন জানব ফোনের আপডেট করলে যে কারণেই স্পিড কমতেও পারে। অনেক সময় পুরনো পুরনো ফোনে যদি অনেক বড় Android আপডেট দিলে ফোনের স্পিড কমতে পারে। এছাড়াও আমি উপরে আলোচনা যে ফোনের স্টোরেজ অবশ্যই আপনাকে খালি করতে হবে। যদি আপনার ফোনের স্টোরেজ খালি না থাকে তাহলেও আপনার ফোনের আপডেট করলেও স্পিড বাড়বে না। এর জন্য আপনাকে এই দুটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রেখে ফোন আপডেট করতে হবে।
মোবাইলে ইস্টোরেজ খালি করার নিয়ম
মোবাইল স্লো হলে কি করণীয় তার অনেক বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি মোবাইলে স্টোরেজ খালি করার নিয়মগুলো আসুন জেনে নি। মোবাইল স্টোরেজ খালি aকরার জন্য প্রথমেই আপনাকে যে কাজগুলো করতে হবে তা হলো আপনার ফোনের অ্যাপের ক্যাশ ফাইল গুলো ডিলিট করে দিতে হবে। এরপর যে সকল অ্যাপ আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন সেই অ্যাপগুলোর মধ্যে প্রচুর অস্থায়ী ফাইল বা ক্যাশ জমা হয়। সেগুলো যদি আপনি সেটিংস অ্যাপে এ গিয়ে Clear Cache করে দিলে আপনার ফোনের কয়েক জিবি জায়গা খালি করা সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ১০টি ল্যাপটপ
এরপর আপনাকে ডুপ্লিকেট বা যে সকল ঝাপসা ছবিগুলো রয়েছে সেগুলো মুছে ফেলতে হবে। অনেক সময় আমাদের ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে অথবা মেসেঞ্জারে অপ্রয়োজনীয় অনেক পিক বা ভিডিও ডাউনলোড হয়ে যায়। এর জন্য আপনি অ্যাপের সেটিংস এ গিয়ে অটো ডাউনলোড অপশনটি বন্ধ করে রাখলে এবং চ্যাট হিস্ট্রি থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডিলিট করলে আপনার ফোনে অনেক জায়গা তৈরি হবে।
এরপর গুগোল ড্রাইভ বা ক্লাউড স্টোর ব্যবহার করে আপনার ফোনের স্টোরেজ খালি করতে পারেন। আপনার ফোনের সাইকেল বিন খালি করতে হবে। এভাবে আপনি আপনার ফোনের ভিতরে খালি করে খুব সহজে ফোনের স্লো হওয়ার সমস্যা দূর করতে পারবেন না। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মোবাইল স্লো হলে কি করনীয়।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলার উপকারিতা
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলার উপকারিতা গুলো চলুন এবার জেনে নিন। তবে আপনি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে কোন অ্যাপগুলো আপনার আসলেই প্রয়োজন নেই, তারপর সেগুলো ডিলিট করতে হবে ।কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে চলুন আগে সেই বিষয়গুলো জেনে নিন-প্রথমে আপনাকে দেখতে হবে । এবার অবশ্যই আপনার ফোনের গুরুত্বপূর্ণ যে সকল অ্যাপগুলো রয়েছে সেই অ্যাপগুলোর ডেটা ব্যাকআপ করতে হবে।
এরপর যদি আপনার ফোনের সিস্টেম অ্যাপ গুলোর সম্পর্কে আপনার কোন ভাবেই সঠিক ধারণা না থাকে তাহলে সেগুলো আনইনস্টল করা যাবে না। আপনার ফোনের অ্যাপ ডেটা পরিষ্কার করেও জায়গা খালি রাখতে পারেন অথবা শুধু অ্যাপ কেস ক্লিয়ার করতে পারেন। এই সকল নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার ফোনের স্প্রিট দ্রুত হবে এবং আপনার ফোন অনেক দিন ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে। তাহলে বুঝতে পারছেন অপারেশন এক মুছে ফেলার উপকারিতা গুলো কি কি।
শেষ কথাঃ মোবাইল স্লো হলে কি করণীয়
আজ এই পোস্টটিতে এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মোবাইল স্লো হলে কি করণীয় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। আপনার ফোন যদি স্লো হয় তাহলে উপরের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়গুলো মেনে চললে আপনার ফোনের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এরপরেও যদি আপনার ফোনের স্পিড না বাড়ে তাহলে একজন ভালো ফোনের মেকার দেখান। আশা করছি আজকের এই পোস্টটির দেখার মাধ্যমে আপনার মোবাইল লো হলে কি করনীয় তা ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।
আজকের এই পোস্টটি যদি আপনার কোন উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই আমাদের এই পোস্টটিতে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। এছাড়াও যদি আপনার কোন বিষয় জানার থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টে জানাতে পারেন। আমরা আরো নতুন পোস্ট লিখতে উৎসাহী হব। পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার পরিচিত বা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। এতে তারা উপকৃত হবে সবাই ভাল থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

.webp)
.webp)
আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url