মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
আপনি কি হঠাৎ হঠাৎ মাথা ব্যথার সমস্যা বা প্রায় সময়ই মাথা ব্যথা সমস্যায়
ভুগছেন? কেন মাথা ব্যথার সমস্যা হয় জানতে চান। অল্প ব্যথা এবং বেশি ব্যথা
সকল ধরনের সমস্যা নিয়েই আজকের এই পোস্টটিতে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ রয়েছে যেগুলো সেবন করলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়
তার দশটি কার্যকর ওষুধের নাম জানতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক মাথা
ব্যথা কমানোর সহজ সমাধান গুলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ
-
মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ
-
বাংলাদেশের মাথাব্যথার ওষুধ
-
কোন ধরনের মাথা ব্যথায় দ্রুত ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া
প্রয়োজন
-
মাইগ্রেনের ওষুধের নাম
-
মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
-
মাথা ব্যথার সেরা ওষুধ
-
কোন কোন খাবার খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়
-
মাথা ব্যথার চিকিৎসা
-
মাথা ব্যথার ওটিসি ওষুধ
-
শেষ কথাঃ মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ
মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ
বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মাথা ব্যথার সমস্যা হচ্ছে। তাই
আজকে মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ সম্পর্কে আলোচনা করব। ছোট থেকে বড় প্রায় সকল
বয়সেরই মাথা ব্যথা সমস্যা হয়ে থাকে। মাথা ব্যথা সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে
থাকে। সাধারণ মাথা ব্যথা হওয়ার কারণ রয়েছে সেগুলো হলো-কোন বিষয়ে অতিরিক্ত
টেনশন করলে মাথা ব্যাথা সমস্যা হতে পারে। ঘুমের অভাব অথবা অতিরিক্ত পরিমাণ
ঘুমিয়ে থাকলে মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও অনেক সময় স্ট্রেস,
চাইনাস, ডিহাইড্রেশন, সাইনাস, মাইগ্রেন ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা সমস্যা
হতে পারে।
এই সকল মাথা ব্যথা সমস্যা গুলোর জন্য কিছু ঔষধ সেবন করলে আরাম পাওয়া যায়।
তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন
করা উচিত।
এতে আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন। মাথা ব্যথা বিভিন্ন
ধরনের হওয়ার কারণে এর ওষুধগুলো সে অনুযায়ী খাওয়া উচিত। তা চলুন দেরি
না করে জেনে নেওয়া যাক সেই ওষুধগুলো কিভাবে খেতে হবে। এগুলোর
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কোন ওষুধের কি ধরনের মাথা ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া
যায়।
বাংলাদেশে মাথা ব্যথার ওষুধ
বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাথা ব্যথা ওষুধ পাওয়া যায়। এগুলো মাথা
ব্যথা ধরন অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। মৃদু ব্যথা হলে বা তার চেয়ে একটু বেশি
ব্যথা অনুভব করলে প্যারাসিটামল ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনি কিছুক্ষণের
মধ্যে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। হালকা মাথা ব্যথার জন্য প্রচুর পরিমাণে
প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়।
এটি শুধুমাত্র মাথা ব্যথা নয় শরীরে যে কোন হালকা ব্যথা দূর করতে সাহায্য
করে এই প্যারাসিটামল।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাথা ব্যথার ওষুধ পাওয়া গেলেও সব ধরনের ঔষধ খাওয়া
যাবেনা। কারণ মাথাব্যথার ওষুধ অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা
দিতে পারে যেমন গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, কিডনি সমস্যা, ছাড়া বিভিন্ন ধরনের
সমস্যা হতে পারে। তো চলুন জেনে নেই কোন ধরনের মাথা ব্যথায় কি ওষুধ খেলে কোন
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিবে না।
- ন্যাপ্রক্সেন (Naproxen) এটি শরীরে যে কোন ধরণের তীব্র ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি মাথা ব্যথার জন্যও বেশ কার্যকর। গেটো প্রফেন
- কেটোপ্রোফেন(Ketoprofen) এটি তীব্র মাথা ব্যথায় দ্রুত কাজ করে এবং মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য এটি বেশি ব্যবহার করা হয়।
- সুমাট্রিপটান(Sumatriptan) এটিও মাইগ্রেন ব্যথার জন্য বেশ কার্যকর একটি ঔষধ। এটিও বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। তবে মনে রাখতে হবে এগুলো প্রেসক্রিপশন ওষুধ।
তবে এই সকল ওষুধ সেবন করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেবন করা উচিত এতে
আপনার শরীরে বিপদজনক কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তবে শিশু,
গর্ভবতী নারী, লিভার ও কিডনি রোগীদের বিষয়ে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
কোন ধরনের মাথা ব্যথায় দ্রুত ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া উচিত
প্রায় সময়ই বিভিন্ন কারণে আমাদের মাথা ব্যথা সমস্যা হয়। কিন্তু এটি
কোন কোন সময় শরীরের জন্য বিভিন্ন ধরনের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই
এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। সাধারণভাবে আমাদের যে মাথা ব্যথা গুলো
হয়ে থাকে যেমন অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে
বা অতিরিক্ত পরিমাণ ঘুমানোর কারণে হতে পারে এগুলো স্বাভাবিক মাথা ব্যথা বলা
যায়।
অনেক সময় আমাদের শরীরে কোন বড় ধরনের অসুখ বাসা বাধার কারণে এই মাথা ব্যথার
সমস্যা হতে পারে। যেমন যদি আপনার শরীরে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। আবার এই
ব্যথা যদি মাথার পেছনদিকে বেশি ব্যথা অনুভব হয় এবং এই ব্যথা সেকেন্ড বা কয়েক
মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যথা অনুভব হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া উচিত। কারণ এটি মাথার ব্রেনের সমস্যা লক্ষণ। এটি আপনি যদি সময় মত
চিকিৎসা না করেন তাহলে কিছু ক্ষেত্রে মাথা ব্যথার গুরুতর রোগের
লক্ষণ হতে পারে।
তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আরো কিছু
রক্ষণ রয়েছে যেগুলো আপনার বুঝতে আরো সুবিধা হবে। যেমনঃ
- হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা এবং তার সাথে বমি ভাব বা বমি হওয়
- চোখে ভালোভাবে দেখতে না পাওয়া
- জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া
- বলার সমস্যা দেখা দেওয়া
-
৬ থেকে ৭ দিনের বেশি মাথাব্যথা চলতে থাকলে
-
৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে যদি হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে
- সাধারণ মাথাব্যথার ওষুধ খেয়ে মাথা ব্যথা না কমলে
এই সকল সমস্যা গুলো সাধারণত স্ট্রোক, মস্তিষ্কে সমস্য, মাইগ্রেনের বিপদ
জনক দিক এবং টিউমারের লক্ষণ। তবে উপরের সমস্যা গুলো হলেই যে এই সমস্যাগুলো হবে
তা নয়। কিন্তু দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া
প্রয়োজন।
মাইগ্রেনের ওষুধের নাম
বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশের অনেক মানুষ এই মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে
এটি এমন একটি সমস্যা যেটি স্বাভাবিক মাথা ব্যথার চেয়ে অনেক তীব্র
ব্যথা।এই ব্যথা হওয়ার কিছু লক্ষণ আছে যা থেকে আপনি কোন ধরনের সমস্যায় আছেন তা
বুঝতে পারবেন।
প্রথমে আপনার হালকা ব্যথা অনুভব হবে এরপর আসতে আসতে তীব্র ব্যথা হবে।এরপর
আপনার মাথার যেকোনো একপাশে তীব্র ব্যথা শুরু হবে।বমি ভাব হবে বা বমি হবে।
এছাড়াও আলোতে এবং উচ্চ শব্দতে সম্যসা হয়।এই সমস্যা গুলো যদি আপনার হয় তাহলে
বুঝবেন আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা হয়েছে।তবে এই সমস্যা হলে ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া
প্রয়োজন।তবে মাইগ্রেন এর দুই ধরনের যেমনঃ অ্যাকিউট ট্রিটমেন্ট ও প্রিভেন্টিভ
ট্রিটমেন্ট। এই দুইটির দুই ধরনের চিকিৎসা হয়
যেমনঃ অ্যাকিউট ট্রিটমেন্ট এটি যদি মৃদু ব্যথা হলে এই
ট্রিটমেন্ট করা হয়। আবার প্রিভেন্টিভ ট্রিটমেন্ট করা হয়
যদি মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা হয় এবং এটি বারবার হতে থাকে তাহলে এই
ট্রিটমেন্ট করা হয়।
চলুন জেনে নেই এই দুইটি ট্রিটমেন্টের চিকিৎসার ওষুধগুলোর নাম এবং এগুলোর ডোজ,
উপকারিতা ও সর্তকতা সম্পর্কে সকল তথ্য-প্রথমে
আমরা জানবো অ্যাকিউট মাইগ্রেনের ওষুধের নাম গুলো-
- প্যারাসিটামল-এটি মৃদ বা হালকা মাইগ্রেন ব্যথায় এই ওষুধটি অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় তবে এটি অবশ্যই আপনাকে পরিমাণ মতো খেতে হবে। তবে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয় জেনে রাখতে হবে যেমন যদি আপনার লিভারের কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।
-
রাইজাট্রিপটান-এই ওষুধটি মাইগ্রেনের জন্য অনেক ভালো কার্যকর এটি বমি ভাব
কমায় এবং দ্রুত মাথা ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়।
-
এরগটামিন-এই ওষুধটিও মাথা ব্যথার জন্য অনেক ভালো কার্যকর তবে এর অনেক বেশি
পরিমাণে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এ কারণে এই ওষুধটি আপনারা এড়িয়ে
চলার চেষ্টা করবেন।
তবে এ সকল ওষুধ গুলোর মধ্যে কোন ওষুধটি আপনার শরীরের জন্য কোন ক্ষতি
ছাড়াই আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা সমাধান হবে তা অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ
নিয়ে জেনে ওষুধ গুলো খেতে হবে। যেমন আপনার মাইগ্রেন ব্যথা কোন
ধরনের হয়েছে এবং এর জন্য কোন ওষুধটি ভালো হবে তা অবশ্যই
আপনাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে খাওয়া সবচেয়ে বেশি ভালো ফলাফল
পাবেন।
মাথাব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
বর্তমান সময়ে আমাদের প্রায় সকল দেশেই এই সমস্যায় ভুগতে হয় তা হল মাথা
ব্যথা। এই মাথা ব্যথা ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেরই এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। তবে
আমরা চাইলেই এই সমস্যাটি ঘরোয়া উপায়ে সমাধান করতে পারি। এই মাথা
ব্যথার সমস্যাটি বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে আমরা চাইলেই এই সমস্যাগুলো
ওষুধ ছাড়াই অনেকদিন সুস্থ থাকতে পারি। তো চলুন জেনে নেই কিভাবে ঘরোয়া
উপায়ে মাথা ব্যথার সমস্যা সমাধান করা যায়। তবে মাথা ব্যথা হওয়ার কিছু
কারণ জেনে নেই তাহলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে।
মাথা ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হয়ে থাকে, সঠিক সময়ে এবং
অনিয়মিত ঘুমের কারণে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পানি শূন্যতা, উচ্চ শব্দ
এবং অতিরিক্ত রুদ্রের তাপ শরীরে শোষণ করলে সাধারণত মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। তো চলুন
জেনে নেই এগুলো কিভাবে ঘরোয়া সমাধানে মাথা ব্যথা কমানো যায়।
- আদা চা-আদা চা মাথা ব্যথার জন্য অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়। এর জন্য প্রথমে আপনাকে এক টুকরো আদা নিয়ে এটি কুচি করে একা পানিতে খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করলে দ্রুত ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়।
- পুদিনা পাতা-পুদিনা পাতা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে। এটি মাথাব্যথার জন্য অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার তেল মাথা দিয়ে ঠান্ডা করে এটি মাথায় দিলে এবং কপালে দিয়ে ভালোভাবে মেসেজ করলে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যাই। এছাড়াও পুদিনা পাতার পান করলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।
- মাথা ব্যথার জন্য অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে ।একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাভাবিক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এছাড়াও কিছু খাবার খেলে মাথাব্যথা সমস্যা থেকে কিছুদিন ভালো থাকা যায় ।যেমনঃ টক দই, ডাবের পানি এ সকল খাবার আপনার মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
মাথা ব্যথা কমানোর জন্য আরো কিছু ঘরোয়া সমাধান রয়েছে যেগুলো আপনার ঔষধ
ছাড়াই মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেমনঃ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো
এবং সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘুমানো উচিত এতে মাথা ব্যথা
হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে মোবাইল বা কম্পিউটার
ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। চা অথবা কফি খেয়ে মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
পারেন তবে অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না এতে আপনার শরীরে বিভিন্ন
ধরনের ক্ষতি হবে এবং মাথা ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।
মাথা ব্যথা কমানোর জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা করতে পারেন। এছাড়াও
যোগব্যায়াম এবং নাক দিয়ে নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়া এগুলো করে অনেক
মানসিক চাপ কমাতে পারে এতে আপনার মাথা ব্যথা অনেক নিয়ন্ত্রণে রাখতে
সাহায্য করবে। নিয়মিত খাবার খেতে হবে তবে অবশ্যই সুসাম্য খাবার খেতে হবে।
অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তবে যদি আপনার মাথা ব্যথা ২৪ ঘন্টার
বেশি হয় এবং ঘাড় শক্ত হওয়া জ্বর বারবার বমি এ সকল বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে
ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
মাথা ব্যথার সেরা ওষুধ
মাথা ব্যথার জন্য সেরা কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো খেলে আপনার নিরাপদে ও দ্রুত মাথা
ব্যথা কমাতে পারে। আসন জেনে নেই সেই ওষুধগুলো কি কি এবং কোন কোন সময় খাওয়া
উচিত।
সাধারণত মাথাব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খেলে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়।
এছাড়া টেনশনের অন্য মাথা ব্যথা যেমন স্ট্রেস
এগুলোর জন্য আইবুপ্রফেন এটি সেরা ওষুধ হতে পারে আপনার জন্য।
এছাড়া সর্দির জন্য যে মাথা ব্যথা হয় তার জন্য আইবুপ্রফেন অনেক ভালো কাজ
করে।
আবার এগুলো ছাড়াও আরো কিছু মাথাব্যথা রয়েছে যেমন মাইগ্রেনের ব্যথা
যা সুমাট্রিপটান এটি অথবা রাইজাট্রিপটান এই ওষুধগুলো আপনার জন্য সেরা
হতে পারে। এবার বমি ভাবসহ যে মাথা ব্যথা হয় এটি ডমপেরিডন ই
অথবা মেটোক্লোপ্রমাইড মার খেলে দ্রুত বমি ভাব দূর করা যায় এবং মাথাব্যথা
নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ওষুধগুলো আপনার পছন্দমত খাওয়া উচিত হবে না
কারণ এগুলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী না খেলে গ্যাস্ট্রিকের
সমস্যা, কিডনি, লিভার, গর্ভবতী মা এদের জন্য অবশ্যই সচেতন থাকতে
হবে। শিশুদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই খাওয়ানো যাবে না।
কোন কোন খাবার খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়
মাইগ্রেনের সমস্যা এমন একটি সমস্যা যা স্বাভাবিক মাথা ব্যথার তুলনায় অনেক
যন্ত্রণাদায়ক তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। মাইগ্রেন সমস্যার নিয়মিত ওষুধ খেলেও
অবশ্যই আমাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস রাখা উচিত। কারণ শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য
সঠিক খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা
সম্ভব। চলুন জেনে নেই কোন কোন খাবারগুলোতে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
সাহায্য করে। এগুলো জানা দরকার কারণ সঠিক খাবার নির্বাচন করলে আপনি সহজে
সুস্থ থাকতে পারবেন।
চলুন দেরি না করে এবার জেনে নেই কোন কোন খাবারগুলোতে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে
রাখে-
- পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি।
-
ডাবের পানি ও ফলের রস অবশ্যই আপনাকে চিনি ছাড়া খেতে হবে।
-
সুপ ও সেদ্ধ শাকসবজি যেমন-পালং শাক
-
এক টুকরো আদা কুচি করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
-
কাঁচা বা পাকা কলা, আপেল, পেয়ারা, কমলা, দুধ ও দই।
- ইলিশ মাছ ও সামুদ্রিক মাছ
- চিয়া সিড এবং তিসি বীজ।
যে সকল খাবার গুলো এড়িয়ে চলবেন-
- অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার
- চকলেট বা ক্রিম এই সকল খাবার
- অতিরিক্ত চিনিসহ চা এবং কফি
-
ফাস্টফুড ও সফট ড্রিঙ্কস এ সকল বাইরের খাবার
সময় মত খাবার খাওয়া দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে না খাওয়া
এবং রাতে বেশিক্ষণ জেগে না থাকা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া এবং
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম নিশ্চিত করা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা। অনেক বেশি
পরিমাণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার না করা। এ সকল বিষয় মেনে চললে
মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন খাদ্য
অভ্যাস আমাদের মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য কতটা ভূমিকা রাখে
মাথা ব্যাথার চিকিৎসা
মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ এর চিকিৎসা আমরা দুই ভাবে করতে পারি এক ঘরোয়া উপায়ে
চিকিৎসা এবং দুই ডাক্তারি চিকিৎসা। তবে মাথাব্যথার জন্য ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া
সবচেয়ে ভালো। কারণ ঘরোয়া চিকিৎসা সব ধরনের মাথা ব্যথার জন্য নয় এটি
শুধু স্বাভাবিক মাথা ব্যথার জন্য চিকিৎসা তবে ডাক্তারের চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের
ঘরো চিকিৎসাও করতে পারি। এতে আমাদের দ্রুত মাথাব্যথার রোগ নির্ণয়
করতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেই ডাক্তারের চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু
তথ্য।
যদি হঠাৎ করে কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের মধ্যে তীব্র বাধা শুরু হয়,
প্রতিদিন মাথা ব্যথা হলে। মাথা ব্যথার সাথে যদি অতিরিক্ত পরিমাণ বমি হওয়া,
ঘাড় শক্ত হওয়া, জ্বর আসা
হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া মাথায় কোন ধরনের দুর্ঘটনার পর ব্যথা হওয়া এবং ৪০
বছরের উর্ধ্বে যদি নতুন করে কারো অতিরিক্ত পরিমাণ মাথাব্যথা শুরু হয় তাহলে
অবশ্যই আপনাকে যে সকল পরীক্ষাগুলো করতে হবে তা হলো-প্রেসার মাপা, চোখ
পরীক্ষা করা, প্রয়োজন হলে এমআরআই করা এই সকল পরীক্ষাগুলো করে
নিশ্চিত হতে পারেন।
মাথা ব্যাথার ওটিসি ওষুধ
মাথাব্যথার জন্য ওটিসি ওষুধ আমাদের জন্য অনেক ভালো উপকার হলেও এটি আমরা অনেক সময়
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যে কোন ফার্মেসিতে গিয়ে এই
ওষুধগুলো খেয়ে থাকি।
তবে যদি আমরা সঠিক নিয়মে এই ওষুধ টি ব্যবহার না করে তাহলে আমাদের শরীরে
বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে তাই অবশ্যই এর সঠিক ব্যবহারের নিয়ম জেনে
রাখা উচিত।
ওটিসি ওষুধ এটি মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ যা সাধারণ মাথাব্যথা বা জ্বর
বা শরীরের যেকোনো স্বাভাবিক ব্যথায় এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়।
এটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া যাবেনা এবং এটি ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী খাওয়া উচিত। ওটিসি ওষুধ এবং অন্যান্য ব্যথা নাশক ওষুধ এক সঙ্গে খাবেন
না। তিন দিনের বেশি খাওয়া উচিত নয়। যদি খাওয়া প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই
আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই এ সকল
ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে।
শেষ কথাঃ মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ কষ্টি
আজকের এই পোস্টটিতে আমরা মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত
জানলাম। মাথা ব্যথা কমানোর জন্য যে সকল নিয়মগুলো উপরে আলোচনা করা হয়েছে তা
যদি আপনি সঠিক নিয়মে মেনে চলতে পারেন তাহলে মাথাব্যথা দ্রুত সময়ে নিরাময়
করা সম্ভব। মাথা ব্যথার ওষুধ এবং ঘরোয়া উপায় নিরাময় করার সকল তথ্য জানা আমাদের
জন্য খুবই উপকারী একটি বিষয়। এই মাথাব্যথা অনেক সময় আমাদের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত
নিয়ে যেতে পারে।
তাই মাথা ব্যথাকে অবহেলা না করে বা শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায় অবলম্বন না করে
সময়মতো ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া শুরু করুন। এতে আপনি দ্রুত সুস্থ হবেন এবং
তীব্র বা হালকা মাথাব্যথা সমস্যা থেকে দ্রুত সমাধানে আসতে পারবেন। আপনি যদি
উপরের আলোচনা গুলো সম্পন্ন মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে মাথাব্যথা নিয়ে
কোন ধরনের সমস্যায় পড়বেন না। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আজকের এই পোস্টটি আপনার
জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে
অবশ্যই আমাদের কমেন্টে জানাবেন।

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url